প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দাবি

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২০:৩২  
প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিক শুধু একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন না তিনি একজন মানবিক ইঞ্জিনিয়ারও। আমৃত্যু তিনি ছিলেন মানবিকতার পতাকাবাহী এক নকিব। বাংলাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামোর রূপকার প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের দ্বাদশ মৃত্যু বার্ষিকী ( ০১ সেপ্টেম্বর ) উপলক্ষে আইইবির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) এক ভার্চুয়াল স্মরণ সভায় এমন অভিমত তুলে ধরেন বক্তারা। আলোচনায় যুক্ত হয়ে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খান বলেন, আমি জেলায় সহকারি প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করতাম আমি তখন দেখতাম স্যার গ্রামীণ মহিলাদের যারা গরীব তাদের সফট কাজ দিতেন, তিনি বলতেন আমাদের ঠিকাদারদের তো টাকা আছে কিন্ত আমাদের গ্রামের গরীব মহিলাদের তো টাকা নাই। এই সময় তিনি তাদের স্বাক্ষর দিয়ে অর্থ দিতেন হাতের আঙ্গুলের ছাপে অর্থ দেয়া হতো না। তিনি শুধু গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন দেখতেন না, অনেক বিষয়ও দেখতেন। তিনি আমাদের স্বাস্থ্য খাতের কথাও মাথায় রেখেছেন, তিনি ভাবলেন আমাদের লোকেরা কোথায় সেবা নিবেন তাই সরকার যখন কমিউনিটি ক্লিনিক করলো তখন তিনি এইটাকে লুফে নিলেন। তার হাত ধরেই আমরা প্রথম কম্পিউটার পেয়েছি। অনুষ্ঠানটির সভাপতি ছিলেন আইইবির পুরকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো.হাবিবুর রহমান। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, কামরুল ইসলাম সিদ্দিকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেয়া উচিত, এখন যে ডিজিটাল বাংলাদেশ এইটার সূচনা উনার হাত ধরেই এবং গ্রামীণ উন্নয়ণ। আমার গ্রাম আমার শহর এইটাও উনার মাধ্যমেই, গ্রাম উন্নয়ন না হলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব না। ভার্চুয়াল স্মরণ সভার আইইবি প্রেসিডেন্ট মো.আবদুস সবুর বলেন, যেখানেই কামরুল ইসলাম সিদ্দিক সেখানেই উন্নয়নের জোয়ার, তিনি উন্নয়ন সহযোগিতা প্রতিষ্ঠান এডিবি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, জাইকাসহ তাদেরকে তিনি উন্নয়নে নিয়ে আসতে পেরেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে। তিনি বহুমাত্রিক কর্মকান্ডের অধিকারী ছিলেন। গ্রামীণ ভাবনায় উনার ছোঁয়া লেগেছিল। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইইবির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোরশেদ। সঞ্চালনায় ছিলেন আইইবির পুরকৌশল বিভাগের সম্পাদক প্রকৌ. শেখ তাজুল ইসলাম তুহিন। ভার্চুয়াল স্মরণ সভার আরো বক্তব্যে রাখেন, এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. শহীদুল হাসান, পিডিবির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ( জেনারেশন) কাজী মতিউর রহমান, আইইবির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী, পিডব্লুইডি এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. কবীর আহমেদ ভূঁইয়া এবং আইইবির সাবেক চেয়ারম্যান মো. নুরুল হুদা।